মঙ্গলবার

#নিয়তি -২( পর্ব-৬) । লিখা-- আসমা আক্তার পিংকি।

 #নিয়তি -২( পর্ব-৬) । লিখা-- আসমা আক্তার পিংকি।শিউলি বেগম--- নাজিফাকে মেরে ফেলবো!!!!!-

---- হ্যা ও যেহুতো তোমার মেয়ের পথের কাঁটা তাই ওকে মেরে ফেলাই উচিত।
----- কিন্তু তাতে তোমার লাভ কি????
ফাহমিদা পৈশাচিক হেসে---- এই টুকু তুমি যদি না বুঝো তাহলে তুমি বড্ড বোকা। এনিওয়ে বোকা হয়েই থাকো সময় হলেই বুঝবে নাজিফাকে মেরে ফেললে কিংবা,নাজিফা মরে গেলে আমার কতটা লাভ।
তো তুমি কি রাজি????
শিউলি বেগম কিছুটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে---- ফাহমিদা,এটা কোনো ছবি বা সিরিয়াল নই যে একটা মানুষ কে মেরে ফেলার ইচ্ছে হলেই খুব সহজে ওকে শেষ করা দেওয়া যায় ,ব্যস তারপর কাহিনী খতম৷ ,এটা,বাস্তব লাইফ যেখানে এই কাজটা করা যতটা কঠিন তারচেয়ে ও বেশি কঠিন হয়ে যাবে জীবনটা,,, যদি খুনের আসামি হিসেবে সবার কাছে দরা খেয়ে যাই।
---- তোমার এতো ভয় ছোট মা!!!
----এটা ভয় নয় ফাহমিদা,,,যা সত্যি তাই বললাম,,, বোকার স্বর্গে আছো তো এখন তাই বুঝতে পারছোনা, শুনো ফাহমিদা আমি বলি কি রুমে গিয়ে ঠান্ডা মাথায় ভাবো এটা কোনে সিরিয়ালের শুটিং ও না যে পরিচালক একজন কে মেরে ফেলতে চাইলো আর খুব সহজে সব হয়ে গেলো। এটা বাস্তব জীবন, হ্যা। এখানে চাইলেও আমরা সব কিছু করতে পারিনা।
তোমার এসব ফালতু কথা শুনার আমার টাইম নেই,,৷
আমি বরং ও যাতে এই বাড়ি ছেড়ে, ইমাদের লাইফ ছেড়ে চলে যায় সেই ব্যবস্থাই করার চেষ্টা করি, তোমার মতো বোকার স্বর্গে বসবাস না করে ।
এই বলে শিউলি বেগম চলে গেলেন।
শিউলি বেগম চলে যেতেই ফাহমিদা বলতে লাগলো
--- তুমি বুঝো তোমার স্বার্থটা ছোট মা, আর আমি বুঝি আমার স্বার্থটা। আমার স্বার্থটা হাসিল করতে তো নাজিফাকে আমার মেরে ফেলতেই হবে। আর মায়া কেন,,, এই বাড়িতে আমি কেউকেই ইমাদের বউ হিসেবে মেনে নিবোনা, কেউকেই না।
.
.
.
..দুপুর দিকে নাজিফা নাবা নওরিন কে গোসল করিয়ে জামা কাপড় পড়াচ্ছে,
এমন সময় মায়া দরজার সামনে দাঁড়িয়ে
---- ভিতরে আসবো,?????
নাজিফা দরজার দিকে তাকিয়ে---- ও তুমি ওখানে দাঁড়িয়ে আছো কেন,এসো ভিতরে এসো।
মায়া রুমে ঢুকে ---- ইমাদ এখন কেমন আছে???
---- এটা তুমি আমার কাছে জানতে চাচ্ছ কেন? তুমি গিয়ে ওকে দেখে আসলেই তো পারো।
----- না আসলে ইমাদ এখন তো আমার উপরে রাগ করে আছে তাই আমি ওর সামনে এখন যেতে চাইনা।
---- হুম ভালো আছে, ডাক্তার তো দেখে গিয়েছেন, ঔষধ ও দিয়েছেন,, এইতো।
এই বলে নাজিফা আবার নিজের কাজে ব্যস্ত হলো, নওরিনকে হাসি মুখে বললো
--- মা সুন্দর করে নামাজটা পড়ে নেও।
মায়া তখন নাজিফার সামনে এসে ---- আসলে ওই সময় তোমার সাথে ওভাবে আচরণ করা ঠিক হয়নি, প্লিজ স্যরি।
---- না ঠিক আছে সমস্যা নেই।
---- না আসলে আমি না ইমাদকে কষ্টে দেখতে পারিনা। এখন ও মনে আছে ভার্সিটি লাইফে ওর সামান্য অসুখ হলে আমি পাগল হয়ে যেতাম। সারারাত জেগে ওর সেবা করতাম। ইমাদ ও অসুস্হ হলে শুধু আমার খোঁজ করতো , তাইতো খালামনি ইমাদের সামান্য অসুখ হলেই আমাকে ফোন করতো।
নাজিফা মায়ার কথায়,কিছুটা ইমাদের উপর অভিমান করে --- ও ভালো তো।
---- আসলে ও আমার খুব ভালো বন্ধু ও ছিলো , আর আমি ওকে............... ..
নাজিফা,,, নাজিফা এদিকে তাড়াতাড়ি এসো তো।
ইমাদের গলার আওয়াজ পেয়ে নাজিফা মায়ার কথা পুরোপুরি না শুনেই ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো।
---- সেট কথাটা বলতে পারলাম না।
.
.
.
নাজিফা ইমাদের কাছে গিয়ে অভিমানি সুরে --- কি হলো ডাকছো কেন???
---- এ ভাবে কথা বলছো কেন????
নাজিফা কান্না মাখা কন্ঠে ---- তোমার এতো মেয়েদের সাথে কিসের বন্ধুত্ব ছিলো বিয়ের আগে??
--- হঠাৎ এমন প্রশ্ন!!!!!
----- কিছুনা বলো কেন ডেকেছো????
--- আবার কে কি বলেছে তোমায়, যে মুখটা অমন ভার করে রেখেছো। আর আমার কোনো কালেই অনেক মেয়ে বন্ধু ছিলো না, শুধু মায়াই একমাএ আমার বান্ধবী ছিলো, কেননা ও আর আমি একই সাথে পড়াশুনা করতাম বিধেয় এ ছাড়া আর কিছুই নয়।
নাজিফা চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো।
ইমাদ ওর নিরবতা দেখে কিছুটা কষ্ট নিয়ে,,,
------তুমি কি আমায় কোনো কারনে অবিশ্বাস করছো!!!!
দেখো নাজিফা একটা কথা তোমাকে বলে রাখি- তোমার আর আমার সম্পর্ক টা ভাঙার জন্য অনেকেই উঠে পড়ে লেগেছে, সুতারং তুমি যদি তাদের কথায় আমাকে অবিশ্বাস করো তাহলে তারা তাদের স্বার্থ উদ্ধার করতে খুব সহজেই পারবে।
ইমাদের কথায় নাজিফা বুঝতে পারলো মায়া যা বলেছে,, শুধু ইমাদকে ভুল যাতে বুঝি সেজন্য বলেছে। কিন্তু কেন ও এমন করছে, ইমাদের সাথে আমার সম্পর্ক নষ্ট করে ওর কি লাভ????
----- কি হলো ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকবে, এদিকে আসবেনা?
নাজিফা ইমাদের কাছে যেতেই,, ----- দেখো নাজিফা মানুষের কথায় কান দিয়ে প্লিজ আমার সাথে রাগ করোনা।
---- স্যরি আর হবেনা।
----- আচ্ছা এসব কথা বাদ দেও। মাকে ডাকো তো।
---- কেন?
----- আসলে আজকে মহিদের সাথে কথা হয়েছে,,,
---- কে মহিদ???
----- আরে আমার বন্ধুর ছোট ভাই, ওই যে যার জন্য নিতুর বিয়ের কথা বলেছি।
-----ওওওও,,, হ্যা আমি এখনি মাকে ডেকে আনছি।
.নাজিফা সালেহা বেগমকে নিয়ে কিছুক্ষন পর ঘরে ঢুকতেই, ইমাদ মুচকি হেসে--- মা তুমি কই থাকো সারাদিন???
---- বাবা ইদানিং মায়ের শরীরটা এতো খারাপ লাগছে যা বলার বাহিরে।
---- নাজিফা--- খারাপ তো লাগবেই, সারাদিন যদি কোনো মানুষ এতো টেনশান করে তাহলে তার খারাপ লাগবে নাকি আমার লাগবে৷
ইমাদ--- কিসের এতো টেনশান করো মা???
নাজিফা--- কিসের আবার নিতুকে নিয়ে,,, প্রেশার যেভাবে ঘন্টাখানেক পর- পর উঠা নামা করছে তাতে আল্লাই জানে কোন বিপন আসছে।
ইমাদ রেগে---- মা তুমি কেন এতো টেনশান করো, আমি আর ফাহাদ ভাইয়া তো আছি নাকি।
সালেহা বেগম ঠুনকো হেসে--- হাসালি আমায় ফাহাদ আবার নিতুর ব্যাপারে কথা বলবে, সেই সকালে চলে যায় আর রাতে আসে, মাঝেমাঝে বন্ধ পেলে দুজনে ঘুরতে চলে যায়, নিজেদের সন্তানেরেই ঠিক করে খবর নেয়না আর থাক বোনের। আর তুই,, নিতু যে পরিমান বেয়াদব হয়েছে, তোকে ভাই বলে মূল্য দিবে কিনা সন্দেহ আছে।
----মা প্লিজ এসব বাদ দেও,শুনো আমি তোমাকে যে কারনে ডেকেছি , আসলে আমি মহিদের সাথে কথা বলেছি আইমিন আমার ফ্রেন্ডের ছোট ভাইয়ের সাথে যার কথা আর কি তোমায় বললাম।
কথা বলে যা বুঝলাম ছেলেটি খুব অমায়িক, এবং ঠান্ডা প্রকৃতির আর আমারও ওকে খুব ভালো লেগেছে। ওরা কালকে আসতে চায়,, তো আমি কি ওদের আসতে বলবো মা??
সালেহা বেগম বেশ আনন্দিত মুখে ---- এটা আবার আমাকে জিজ্ঞাসা করছিস,, এখনি ওদের ফোন দিয়ে বল কাল আসতে।
নাজিফা সংকোচ নিয়ে--- কিন্ত মা যাকে দেখতে আসবে তার ও তো মত নেওয়া উচিত। কারন মা ওর যে পরিমান রাগ পরে যদি ওনারা আসলে ওনাদের সামনে না যেতে চায়!
সালেহা বেগম--- তুমি ঠিক বলেছো,,, আসলেই আমার মেয়ে তো আমি চিনি ও কেমন। যাও ওকে ডেকে আনো।
নাজিফা---- কিন্তু মা।
-----আবার কিন্তু কেন???
---- মা আসলে নিতু সেই সকালে যে বের হয়ে গেছে এখনো আসেনি।
---- মানে কি, ও আজকে ও বের হয়ে গেছে আর তুমি আমাকে কিছুই বলোনি।
---- আসলে মা ছোট মায়েই ওকে যেতে দিয়েছে।
শিউলি বেগম --- কি মেয়েরে বাবা আমার নামে এমন মিথ্যে কথা বলছে!!
নাজিফা --- ছোট মা আপনি,,আসুন ভিতরে আসুন।
--- থাক- থাক জুতো মেরে আর গরুদান করা লাগবেনা। শুন আপা আমি তোর মেয়েকে যেতে দিতে চাইনি, বরং নাজিফা বলেছে থাক একটু যাক।আমি অনেকবার নাজিফাকে বলেছি,, ওকে যেতে না দিতে কিন্ত কে শুনে কার কথা।
( চলবে)
লিখা-- আসমা আক্তার পিংকি।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: