সুন্নত জিন্দার মিশন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সুন্নত জিন্দার মিশন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার

'সুন্নত জিন্দার মিশন । পর্ব ১০ । Md Abdul Kaiyum

'সুন্নত জিন্দার মিশন । পর্ব ১০ । Md Abdul Kaiyum

'সুন্নত জিন্দার মিশন পর্ব ১০Md Abdul Kaiyum

খালিদ নামাজ পড়ে দাদা দাদীর কবর জিয়ারত করে বাসায় আসে।বাড়ির সবাই এখনো নামাজের ঘরে তাদের এখনো নামাজ শেষ হয় নি।তাই খালিদ তার রুমে গিয়ে বই নিয়ে পড়া শুরু করে। কিছুক্ষণ পর রিমা তাদের রুমে আস.
রিমাঃ কখন আসলেন?
খালিদঃ এই তো কিছুক্ষণ হলো। কই ছিলেন আপনি?
রিমাঃ নামাজের রুমে.
খালিদঃ আপনি না শারিরিক অসুস্থ.?


রিমাঃ হুম তাতে কি..? এই অবস্থায় নামাজের রুমে যাওয়া নিষেধ নাকি।
খালিদঃ শুনছিলাম এই অবস্থায় নামাজ, রোজা, কোরআনমজিদ তেলোয়াত নিষিদ্ধ।
রিমাঃ হুম..এই অবস্থায় এসব আমল নিষেধ।
খালিদঃ তাহলে ঐরুমে কি করছিলেন.?
রিমাঃ নামাজের জায়গায় বসে তাজবিহ, দোয়া, দুরুদ,আদায় করছি।
খালিদঃ এই সময় তাজবিহ আদায় করা যায় নাকি.?
রিমাঃ কেন জানেন না..? এই সময় নামাজ, রোজা,কোরআনমজিদ তেলোয়াত ইত্যাদি ব্যতিত জিকির,দোয়া দুরুদ, ইস্তেগফার ইত্যাদি পড়া যায়।এমন কি কোরআন মাজিদের যে সমস্ত আয়াত দোয়া কেন্দ্রিক ঐ সমস্ত আয়াত ও পড়া যায়.
খালিদঃ ও.... আমার জানা ছিল না।
রিমাঃ আসলে এই সময় যদি আমরা পুরাপুরি ইবাদত থেকে বিরত থাকি তাহলে আমাদের মাঝে অলসতা চলে আসে। ফলে সুস্থ হওয়ার পর নামাজ পড়তে ইচ্ছে করেনা।তাই অলসতা যাতে না আসে আমাদের উচিত এই সময় নামাজের স্থানে বসে বিভিন্ন দোয়া দুরুদ জিকির করে নামাজের সময় পার করা। এতে সুস্থ হওয়ার পর আর নামাজ পড়তে অলসতা আসে না।
খালিদঃ খুব সুন্দর কথা বলেছেন. জাযাকুমুল্লাহ
রিমাঃ ইয়াওয়্যাকি. চলুন খেতে চলুন সবাই অপেক্ষা করতাছে।
খালিদঃ বড় ভাবি কোথায় খাবে.?
রিমাঃ উনি খাবার নিয়ে উনার রুমে চলে গেছেন।
খালিদঃ আমার জন্য উনি আবার বাড়তি কষ্ট কেন করতাছেন। উনাকে বলতেন উনি সবার সাথে খেতো। আমি না হয় পরে যেতাম।
রিমাঃ আমি বলছিলাম. উনি বলছেন বড় ভাইয়া আসলে রাতে ভাইয়া সহ আব্বা আম্মার সাথে এক সাথে খাবেন।
খালিদঃ ও আচ্ছা. তাহলে চলুন।
তারপর খালিদ আর রিমা খাবারের রুমে যায়। ততক্ষণে খালিদের পিতা মাতা খালিদের জন্য অপেক্ষা করছিলো।খালিদের পিতা মাতা চেয়ারে বসলেন খালিদ গিয়ে খাটের উপর দস্তরখান বিছিয়ে বসলেন এবং রিমা কে তার মায়ের সাথে বসতে বলে। আয়েশা সবাই কে খাবার বেড়ে দেয়। খাবার খাওয়ার পর
খালিদঃ বাবা এলাকার মুরুব্বিদের দাওয়াত দেওয়া হলো.?
খালিদের বাবাঃ হুম. মোটামুটি যাদের যাদের দেওয়ার কথা তাদের প্রত্যেক কেই দিলাম. তোমার কি অবস্থায় বউমাদের বাড়িতে দাওয়া দেওয়া হয়েছে.?
খালিদঃ জী "আলহামদুলিল্লাহ" সবাইকেই বলা হয়েছে।মাদ্রাসায় এখনো যাওয়া হয় নি. বিকালে যাবো ইনশাআল্লাহ।
খালিদের বাবাঃ বাজার সদাইর কি অবস্থা.?
খালিদঃ জী "আলহামদুলিল্লাহ্‌ " মোটামোটি ছোট ছোট সব জিনিষ তো নিয়ে আসলাম। এখন বাকিগুলো নিয়ে আসবো ইনশাআল্লাহ। আর ভাইয়া আসার সময় দোকান থেকে গরুর গোস্ত আর মোরগ নিয়ে আসবেন বলছিল।
খালিদের বাবা : "আলহামদুলিল্লাহ্‌ " ভালো . সব কাজ একা করিস না।কিছু কিছু দায়িত্ব আমায় ও দিস. আমি তো এখন আলহামদুলিল্লাহ্‌ অনেক সুস্থ।
খালিদঃ সমস্যা নাই আব্বু আমি ইনশাআল্লাহ পারবো। আপনি বরং বাবুর্চি কাকা আসলে উনার সাথে থাকিয়েন।উনার কি সুবিধা অসুবিধা তা দেখিয়েন।
খালিদের বাবাঃ আচ্ছা ঠিক আছে।
খালিদঃ আচ্ছা আমি তাহলে উঠি. রাতে ফিরতে একটু দেরি হতে পারে। আপনারা ঘুমিয়ে পড়িয়েন।
খালিদের বাবাঃআচ্ছা ঠিক আছে. বেশি রাত করিস না।
খালিদঃ ঠিক আছে বাবা. আমি যাই. আসসালামু আইলাইকুম
চলবে ইনশাআল্লাহ
শিক্ষা
১) জুমার নামাজের পর কবর জিয়ারত করা উচিত। তারা আমাদের জন্য কত কিছু করে গেছেন অথচ তাদের জন্য আমরা কি সাপ্তাহের ১ দিনের অতি অল্প সময় দিতে পারি না।
২) হায়েজ অবস্থায় পুরাপুরি ইবাদত থেকে বিরত না থেকে নামাজের সময় অযু করে এসে তাজবিহ, দোয়া দুরুদ পাঠ করা উচিত। এতে ইবাদতের মাঝে গাফিলতির সৃষ্টি হয় না
হায়েজ সংক্রান্ত কয়েকটি তথ্য
★হায়েজ অবস্থায় ছুটে যাওয়া নামাজ কাজা আদায় করতে হয় না. কিন্তু রোজা আদায় করতে হয়।
★হায়েজ অবস্থায় আল্লাহর কাছে দোয়া করা জায়েজ
★ হায়েজ নিফাস অবস্থায় দোয়া কুনুত পড়া জায়েজ।
★হায়েজ নিফাস অবস্থায় নামাজের ওয়াক্ত হলে অযু করে নামাজের জায়গায় বসে কিছুক্ষণ আল্লাহর নাম নেওয়া, যিকির করা, ইস্তেগফার পড়া মস্তাহাব।
★এই অবস্থায় কোরআনমজিদ পড়া জায়েজ নাই। তবে যদি কোন মহিলা বাচ্চাদের কুরআন শিক্ষা দেন তাহলে তিনি বানান করে পড়াতে পারবেন এবং রিডিং পড়ানোর সময় এক দুই শব্দ করে ভেজ্ঞে আলাদা আলদা শ্বাসে পড়াতে পারবেন।
★হায়েজ অবস্থায় মহিলারা প্রতি নামাজের ওয়াক্তে ৭০ বার এস্তেগফার পাঠ করিলে এক হাজার রাকাত নফল নামাজের সওয়াব ও ৭০ টি গোনাহ মাফ হবে।
✏কোরআন ও হাদীসের আলোকে
খাবার খাওয়ার আদব ও সুন্নত সমূহ,✏
১) জুতা খুলে খাবে। কেননা এতে তৃপ্তি রয়েছে।অবশ্য জুতা পরে খাওয়াতে কোন গুণাহ নেই।
২) খানার পূর্বে উভয় হাত ক্বজি পর্যন্ত ধোয়া সুন্নাত।
৩) প্রয়োজনে কুলি করা সুন্নাত।
৪) খাবার সামনে আসলে পড়বে- ﺍﻟﻬﻢ ﺑﺎﺭﻛﻠﻨﺎ ﻓﻴﻤﺎ ﺭﺯﻗﺘﻨﺎ ﻭﻗﻨﺎ ﻋﺬﺍﺏ ﺍﻟﻨﺎﺭ
৫) বিনয়ের সূরতে বসে খাওয়া।
৬) সামনের দিকে ঝুঁকে বিনয়ের সাথে খাওয়া।
৭) যমীনের উপরে বসে খাওয়া। চেয়ার-টেবিলে খাওয়া উচিত নয়। কারণ এতে খানার অনেক আদব রক্ষা হয় না।
৮) খাওয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা
৯) হেলান দিয়ে বসে খাওয়া উচিত নয়।
১০) ডান হাত দ্বারা খাওয়া সুন্নাত। প্রয়োজন হলে বাম হাত দ্বারা সাহায্য
নেওয়া যেতে পারে।
১১) শরীরের সুস্থতা এবং আল্লাহ তা’আলার হুকুম পালন করার নিয়তে খাবে।
১২) তিন আঙ্গুল দ্বারা খাওয়া সুন্নাত। প্রয়োজনে চার-পাঁচ আঙ্গুল ব্যবহার করা
যেতে পারে।
১৩) এক জাতীয় খাবার হলে অন্যের সম্মুখ থেকে না খেয়ে নিজের সম্মুখ থেকে খাবে।বিভিন্ন রকমের খাবার হলে অন্যের সামনে থেকেও খাওয়া যাবে।
১৪) কেউ কেউ বলেছেন-লবন দ্বারা শুরু করা এবং শেষ করা সুন্নাত। তবে যে হাদীসের আলোকে কথাটি বলা হয়েছে, সে হাদীসটি জাল।
১৫) প্লেটের এক দিক থেকে খাবে। পাত্রের মাঝ থেকে খাবে না। কারণ,
কাঝখানে বরকত নাযিল হয়।
১৬) খেজুর জাতীয় কোনও খাবার যেমন-বিস্কুট, মিষ্টি ইত্যাদি খাওয়ার সময় একটি করে নিবে।
১৭) এক লোকমা গিলার পূবে আরেক লোকমা মুখে দিবে না। টগটগ করে খানা
খেলে লোভ প্রকাশ পায়।
১৮) পড়ে যাওয়া খাবার উঠিয়ে ভাবে। ময়লা লেগে গেলে পরিস্কার করে
খাবে।
১৯) গরম খাবার অথবা পানি ফূঁ দিয়ে ঠান্ডা করবে না।এটা শিষ্টাছার
পরিপন্থী।
২০) অধিক গরম খাবার খাবে না।
২১) খাবারের দোষ-ত্রুটি খুঁজবে না।
২২) খাবারের সময় এমন কোনও কথা বলবে না, যার ফলে অন্যজন খাবার খেতে ভয় পায় কিংবা খাবারের প্রতি তার ঘৃণা সৃষ্টি হয়।
২৩) খাওয়ার মাঝে অন্য কাজে ব্যস্ত হবে না। এমন কোন কথাও বলবেনা, যা শুনতে হলে কান সজাগ করে ভালো মত শুনতে হয়।
২৪) কিছু ক্ষুধা রেখে খানা বন্ধ করে দিবে। এটা হজমের জন্য উপকারী এবং
এতে রুচি বাড়ে।
২৫) আঙ্গুল এবং খাবারের পাত্র পরিস্কার করে খওয়া সুন্নত। এত নেয়ামতের মূল্যায়ণ হয় এবং আল্লাহর কাছে মুখাপেক্ষিতা প্রাকাশ পায়।
২৬) খানা খাওয়া শেষ হলে পড়বে ঃ-
ﺍﻟﺤﻤﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺬﻯ ﺍﻃﻌﻤﻨﺎ ﻭﺳﻘﻨﺎ ﻭﺟﻌﻠﻨﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺴﻠﻤﻴﻦ
দোয়া না পারলে অন্তত শোকর আদায় করতে "আলহামদুলিল্লাহ্‌" বলা
২৭) দস্তরখানা উঠানোর পূর্বে নিজে উঠবে না।
২৮)দস্তরখানা উঠানোর সময় এই দু’আ পাঠ করা ঃ-
ﺍﻟﺤﻤﺪ ﻟﻠﻪ ﺣﻤﺪﺍ ﻛﺜﻴﺮﺍ ﻃﻴﺒﺎ ﻣﺒﺎﺭﻛﺎ ﻓﻴﻪ ﻏﻴﺮ ﻛﻤﻔﻰ ﻭﻻ ﻣﻮﺩﻉ ﻭﻻ ﻣﺴﺘﻐﻨﻰ ﻋﻨﻪ ﺭﺑﻨﺎ
২৯) খানা কাওয়ার পর উভয় হাত কবজি পর্যন্ত ধৌত করা সুন্নাত।
৩০) খানার পর কুলি করা সুন্নত।
৩১) দাঁত খেলাল করা সুন্নত।
৩২) হাত ধোঁয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভেজা হাত মাথায় এবং হাতে বুলিয়ে নিতেন।
৩৩) খানা খাওয়ার পর কিছু জিকির আযকার করে নেওয়া।
৩৪) খানা খাওয়া শেষ হলে সাথে সাথে শুয়ে না পড়া।
(আহকামে যিন্দেগী, তাকমীলাহ, মা’আরিফূল হাদীস)
৯ম পর্ব
সুন্নত জিন্দার মিশন । পর্ব ০৯ ।  Md Abdul Kaiyum

সুন্নত জিন্দার মিশন । পর্ব ০৯ । Md Abdul Kaiyum

সুন্নত জিন্দার মিশন পর্ব ০৯
Md Abdul Kaiyum

দরজা খুলতে দেরি হওয়ায় খালিদ আবার সালাম দেয়
খালিদঃ আসসালামু আইলাইকুম
আয়েশা :ওয়ালাইকুমুসসালাম (দরজা খুলতে খুলতে)
দরজা খুলে আয়েশা দেখে যে খালিদের দুইহাতে ২টি বাজারের ব্যাগ নিয়ে হাজির।খালিদের পুরো শরীর ঘামে ভিজে গেছে।
আয়েশাঃ ভাইয়া.... দাও দাও আমার হাতে দাও।

এই বলে আয়েশা খালিদের হাত থেকে বাজারের ব্যাগ ২টা তার হাতে নিয়া নেয়.রিমা তারাতারি খালিদের সামনে গিয়ে তার জামার ওড়না দিয়ে খালিদের মুখ মুছে দিবে এই মুহুর্তে আয়েশা পাশে দাড়িয়ে আছে এটা মনে পড়ে রিমা দাড়িয়ে যায়.একটু লজ্জিত হয়ে মাথা নিচু করে ফেলে।আয়েশা মুচকি হেসে বাজারের ব্যাগ নিয়ে সোজা ভিতরের রুমে চলে যাচ্ছে।রিমাও মাথা নিচু করে আয়েশার পিছনে পিছনে হাঠা শুরু করতে যাবে তখনি খলিদ হাত ধরে ফেলে।
খালিদঃ কি.....মুছে দিবেন না????
রিমা পিছনে তাকিয়ে দেখে আয়েশাকে দেখা যায় কিনা.আয়েশা অন্য রুমে চলে গেলে রিমা তার ওড়না দিয়ে খালিদের কপালসহ সমস্ত মুখমণ্ডল মুছে দেয়।খালিদ এক অন্য রকম সুখ অনুভব করে।তার কাছে মনে হচ্ছে সে জান্নাতের সুখ অনুভব করছে।সে ভুলেই গেছে কিছুক্ষণ আগে যে তার উপর স্টিম রোলার গেছে।
রিমাঃ অনেক দখল গেছে.চলুন রুমে চলুন একটু বিশ্রাম নিবেন. আমি ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানি নিয়ে আসছি।
খালিদঃ আমি ঠান্ডা পানি খাই না.ঠান্ডা পানি খেলে আমার গলায় সমস্যা হয়।
রিমাঃ আচ্ছা তাহলে নরমাল পানি নিয়ে আসছি।
খালিদঃ ঠিক আছে।
রিমা খাবারের রুমে চলে যায় আর খালিদ তাদের রুমে চলে যায়. কিছুক্ষণ পর রিমা লেবুর শরবত নিয়ে রুমে এসে দেখে খালিদ খাটের উপর বসে আছে. বিদ্যুৎ না থাকায় সে হাতপাখা ঘুরাচ্ছে।
রিমাঃ এই নিন লেবুর শরবত. হাতপাখা এই দিকে দিন।
খালিদঃ না থাক আমি পারবো।
রিমাঃএই দিকে দিন আপনি অনেক ক্লান্ত।
খালিদঃ জাযাকুমুল্লাহ. আমি তো নরমাল পানি আনতে বলছিলাম.??
রিমাঃ আয়েশা আপা বলছে আপনি নাকি লেবুর শরবত পছন্দ করেন তাই. খেয়ে নিন।
খালিদ ঃ ডান হাতে গ্লাস নিয়ে বিসমিল্লাহ বলে ৩ শ্বাসে গ্লাসের অর্ধেক শরবত পান করে। মাওলার শোকর আদায় করে
খালিদঃ"আলহামদুলিল্লাহ্‌ " এই নিন. বাকীগুলো আপনি পান করে নিন।
রিমাঃ আরে...আপনি অনেক কষ্ট করেছেন. আপনি খেয়ে পেলুন.
খালিদঃ স্বামি স্ত্রী একসাথে খেলে আল্লাহ বরকত দিবেন।আপনি যখন আপনার ওড়নার আচল দিয়ে আমার মুখ মুচে দিছেন. তখনই আমার সব ক্লান্তি যেন নিমিষেই চলে গেছে. এই গুলো আপনি খেয়ে নিন।
খালিদ গ্লাসের যে অংশে মুখ লাগিয়ে শরবত পান করেছিল রিমাও গ্লাসের ঐ অংশে মুখ লাগিয়ে শরবত পান করে আল্লাহর শোকর আদায় করে।
রিমাঃ সবাইকে কি দাওয়াত দেওয়া শেষ.???
খালিদঃ "আলহামদুলিল্লাহ্‌ " মোটামুটি সবাইকেই দাওয়াত দেওয়া হলো. আপনাদের বাড়ি, আয়েশার শশুরবাড়ির, বড়ভাবিদের বাড়ি সবাইকে দেওয়া হয়ে গেলো আর নামাজ পড়তে গেলে বন্ধু কয়েকটাকে বলে দিব ইনশাআল্লাহ।
রিমাঃ আজ তো জুমাবার. তারাতারি গোসল করে নিন. সুরা কাহফ পড়বেন না?? জুমার দিনের বিশেষ আমল. দাজ্জালের ফেতনা থেকে বাচার আমল।
খালিদঃ হুম. গোসল করে এসে মসজিদে যাওয়ার আগেই পড়ি. আপনি গোসল করেছেন??
রিমাঃ না।
খালিদঃ ও. আপনার তো জামা ই নাই. আচ্ছা বিকালে নিয়ে আসবো "ইনশাআল্লাহ " আপনার কি ধরনের জামা পছন্দ.??
রিমাঃ আচ্ছা জামার কথা পরে দেখা যাবে. আগে তারাতরি গোসল করে নিন. আযান দেওয়ার সময় তো হয়ে গেছে. সুরা কাহফ পড়বেন কখন.??
খালিদঃ আচ্ছা যাচ্ছি।
রিমাঃ আপনার ফোন টা যদি দিতেন. বাড়িতে ফোন দিতাম.আব্বু আম্মুর সাথে কথা বলতাম।
খালিদঃ হ্যা নিশ্চয়. এই নিন।
খালিদ রিমার হাতে মোবাইল দিয়ে গোসল করার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়ে যায়..
১৫-২০ মিনিট পর খালিদ গোসল শেষ করে আসে। ততক্ষনে রিমার কথা শেষ হয়ে যায়।
রিমাঃ আসছেন.. কই আপনার কাপড় গুলা দিন. আমি রোদে শুকাতে দিয়ে আসি।
খালিদঃ আপনার কষ্ট করতে হবে না আমি আসার সময় দিয়ে আসছি. আপনি কিন্তু বললেন না কি ধরনের জামা পছন্দ..?
রিমাঃ আপাতত জামা লাগবে না আব্বুকে বলে দিছি আগামিকাল এই বাড়ি আসতে আমার সব জামা একটা ব্যাগে করে নিয়ে আসতে।
খালিদঃ এটি কি বলেন... আপনার জন্য জামার ব্যবস্থা তো করা আমার কাজ. আপনার সব কিছুর দায়িত্ব আমি নিছি।
রিমাঃ হুম. আমি কি বলছি আমার দায়িত্ব অন্য কেহ নিচে। আপনার এই কয়েক দিনে অনেক টাকা খরচ হয়েছে।আর আমার জন্য জামার কিনে বাড়তি খরচ করার দরকার নেই।তাছাড়া ঐ জামা গুলো ঐবাড়িতে পড়ে থাকার কোন মানে হয়।
খালিদঃ তারপরেও আব্বা (শশুর) আবার কি ভাববে।
রিমাঃ কিচ্ছু ভাববে না.আব্বুকে সব বুঝিয়ে বলছি। আপনি সুর কাহফ পড়ুন। আমি আপুরা কি করে দেখে আসি
খালিদঃ ঠিক আছে.
রিমা খাবারের রুমে গিয়ে আয়েশা আর বড় ভাবির সাথে বিভিন্ন কথা বলে আর তাদের কে মাঝে মাঝে কাজে সাহায্য করে।যদিও আয়েশা আর বাড়ভাবি বার বার নিষেধ করে.
আয়েশা: ভাবি... আযান দিয়া দিছে ভাইয়া এখন মসজিদে যাবে আপনি বরং দেখে আসুন ভাইয়ার কিছু লাগবে কিনা.ভাইয়া চলে গেলে আমরা একজন একজন করে গোসল করে নিবো ইনশাআল্লাহ.আজ এমনেও অনেক দেরী হয়ে গেছে.
রিমাঃ ঠিক আছে আপা
রিমার ঘরে এসে দেখে খালিদ সুরা কাহফ পড়া শেষ করে এখন পাঞ্জাবি পড়তেছে. খালিদ ডান হাত ডুকিয়ে তারপর বাম হাত ডুকিয়ে পাঞ্জাবি পড়তাছে রিমা তার সামনে গিয়ে দাড়ায়.. যখন খালিদ মাথা ডুকানো শেষ হলো রিমা তার হাত দিয়ে পাঞ্জাবীর বোতাম গুলো লাগিয়ে দেয় এবং ভাজ পড়ে থাকা বিভিন্ন অংশ সোজা করে দেয়.খালিদ কিছু না বলে রিমার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
রিমাঃ কি দেখছেন.?
খালিদঃ আপনাকে
রিমাঃ আমাকে দেখার কি আছে
খালিদঃ আপনি মানবী নন.. আমার মনে হচ্ছে আপনি জান্নাতের একটা হুর।
রিমাঃ কিছুটা লজ্জা পেয়ে মাথা নিচে করে ফেলে. তারপর টেবিল থেকে টুপি নিয়ে খালিদের মাথা থেকে পড়িয়ে দেয়.
খালিদঃ পাগড়ি লাগিয়ে দিবেন না..? নাকি পারেন না.?
রিমাঃ পারি, ছোট ভাইকে মাদ্রসায় যাওয়ার সময় প্রায় লাগিয়ে দিতে হয়.
তারপর রিমা পাগড়ি পাড়িয়ে দেয়..খুব সুন্দর দেখাচ্ছে খালিদ কে. চোখে সুরমা লাগানোর কারনে এত সুন্দর লাগছে যে রিমা অনেকক্ষন খালিদের দিকে তাকিয়ে থাকে.
খালিদ ও রিমার দিকে তাকিয়ে থাকে. কিছুক্ষণ পর রিমার হুশ আসে।
রিমাঃ এভাবে তাকিয়ে থাকলে নামাজ পড়তে যাবেন কখন. তারাতারি যান.আপারা আমার জন্য অপেক্ষা করতাছে. গোসল করতে হবে
খালিদঃ গোসল করবেন.?কিন্তু জামা??
রিমাঃ বড় ভাবি উনার একটা নতুন জামা আমাকে হাদিয়া দিবেন বলছিলেন.
খালিদঃ ও আচ্ছা তাহলে আমি যাই. ও আতর লাগিয়ে নি।
তারপর খালিদ আতর লাগায়..
খালিদঃ জানেন??
রিমাঃ কি.?
খালিদঃ মাঝে মাঝে নবীজি সঃ মসজিদে যাওয়ার আগে আয়েশা রাঃ কে চুমু দিতেন. এটা সুন্নত। আমি ওএই সুন্নত আদায় করতে চাই...
এই বলে রিমা কিছু বুঝে উঠার আগেই খালিদ রিমার কপালে চুমু খেয়ে দৌড দেয়..
রিমাঃ এই সাবধানে.......... ফি আমানিল্লাহ
(চলবে ইনশাআল্লাহ)
শিক্ষা
১) স্বামি বাহিরের থেকে আসলে নিজের ওড়না বা অন্য তোয়ালে দিয়ে তার মুখ মুছিয়ে দেওয়া উচিত। তবে নিজের ওড়না দিয়ে মুছে দিলে মহব্বত বেশি হয়।
২) স্বামি বাহিরের থেকে আসলে তার জন্য ঠান্ডা পানি / শরবত ইত্যাদি ব্যবস্থা করা উচিত।
৩) তার গোসল কিংবা মুখ ধৌত করার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি ব্যবস্থা করা।(সাবান,গামছা,পানি)
৪)স্বামি গ্লাসের যে অংশে পানি খায় ঐ অংশে পানি খেলে মহব্বত বৃদ্ধি পায়. স্বামীরও উচিত স্ত্রী মুখ লাগালো অংশে মুখ লাগিয়ে পানি খাওয়া।
৫) যে কোন খাবার স্বামি স্ত্রী ভাগ করে খাওয়া উচিত।এতে আন্তরিক ভালোবাসা সৃষ্টি হয়।
৬)স্বামির আয় ব্যয়ের দিকে তাকিয়ে নিজের চাহিদা কথা বলা. এমন কিছুর আবধার না করা যাতে স্বামীর তা পূরণ করতে কষ্ট হয় বা অন্যায়ের আশ্রয় নেয়।
৭) জামা গায়ে দিতে ডান হাত আগে পড়া সুন্নত।
৮) পানি খাওয়া কয়েকটি সুন্নত
১) *পানির পেয়ালা দান হাত দিয়ে ধরা। - মুসলিম হা: নং ২০২০
২) *বসে পানি পান করা। -মুসলিম হা নং ২০২৪
৩) *বিসমিল্লাহ বলে পানি পান করা এবং শেষে আলহামদুলিল্লাহ বলা।- তাবারানী হা নং ৬৪৫২
৪) *কমপক্ষে তিন শ্বাসে পান করা এবং শ্বাস ছাড়ার সময় পানির পাত্র সরিয়ে রাখা। -বুখারী হা নং ৫৬৩১
৫) *পাত্র যদি এমন হয় যে ভিতরে দেখা যায় না তবে মুখ লাগিয়ে পানি পান না করা কেননা ভিতরে বিষাক্ত প্রাণী থাকতে পারে। -বুখারী হা নং ৫৬২৬
৬) *যে ব্যক্তি পান করাবে সে সবার শেষে পান করবে। -মুসলিম ৬৮১।
৭) পানি খাওয়া কয়েকটি সুন্নত
১) *পানির পেয়ালা দান হাত দিয়ে ধরা। - মুসলিম হা: নং ২০২০
২) *বসে পানি পান করা। -মুসলিম হা নং ২০২৪
৩) *বিসমিল্লাহ বলে পানি পান করা এবং শেষে আলহামদুলিল্লাহ বলা।- তাবারানী হা নং ৬৪৫২
৪) *কমপক্ষে তিন শ্বাসে পান করা এবং শ্বাস ছাড়ার সময় পানির পাত্র সরিয়ে রাখা। -বুখারী হা নং ৫৬৩১
৫) *পাত্র যদি এমন হয় যে ভিতরে দেখা যায় না তবে মুখ লাগিয়ে পানি পান না করা কেননা ভিতরে বিষাক্ত প্রাণী থাকতে পারে। -বুখারী হা নং ৫৬২৬
৬) *যে ব্যক্তি পান করাবে সে সবার শেষে পান করবে। -মুসলিম ৬৮১
জুমআর দিনের বিশেষ আমল
=====================
১. জুমু‘আর দিনে ৬টি বিশেষ আমল
ক. জুমু‘আর নামাযের উদ্দেশ্যে গোসল করা।
খ. আযানের পূর্বেই মসজিদে রওনা হওয়া।
গ. পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া।
ঘ. ঈমাম সাহেবের কাছাকাছি বসা অর্থাৎ, স্থান পেলে ১ম কাতারে নতুবা ২য় কাতারে বসা।
ঙ. উভয় খুতবা মনোযোগ সহকারে শুনা।
চ. খুতবার সময় কোন কথা বা কাজ না করা। ফায়দাঃ প্রত্যেক কদমে ১ বৎসর পর্যন্ত নফল রোযা রাখার ও ১ বৎসর নফল নামায পড়ার সাওয়াব পাওয়া যাবে। (তিরমিযী হাদীস নং:৪৯২)
জুমু‘আর দিনের অন্যান্য আমল
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
২. সূরা কাহাফ পড়া। (কমপক্ষে ১০ আয়াত) (মুসলিম হাদীস নং ৮০৯; তাফসীরে ইবনে কাসীর-৩/৭৯) ফায়দাঃ দাজ্জালের ফিতনা হতে রক্ষা পাওয়া যায়।
৩. সালাতুত তাসবীহ নামায পড়া। রাকা‘আতঃ এক সাথে ৪ রাকা‘আত অথবা, ২,২ রাকা‘আত করে পড়া।(আবু দাঊদ হাদীস নং ১২৯৭) ফায়দাঃ সকল প্রকার গুনাহ থেকে মাফ পাওয়া যায়।
৪. উত্তম পোশাক ও খুশবু লাগিয়ে নামাযে আসা। (বুখারী হাদীস নং ৮৮৩, ৮৮৬) * খুশবু ব্যবহারে নিম্নোক্ত নিয়্যত করবে । * এটা হুজুর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাত। * আমাদের শরীরের ঘামের গন্ধ হতে যাতে অন্যদের কষ্ট না হয়। * মুসলমান ভাইদের অন্তর খুশি করা। * হুজুর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন –“যারা গরীব, খুশবু কেনার টাকা নেই, তাদের জন্য গোসল হচ্ছে খুশবু।”
৫. দুই খুতবার মাঝে যখন ঈমাম সাহেব বসে তখন অন্তরে দু‘আ করা, মুখে নয়। (তিরমিযী হাদীস নং ৫২৮) ফায়দাঃ এ সময় দু‘আ কবুল হওয়ার ওয়াদা রয়েছে।
৬. আছরের পর ৮০ বার এই দুরুদ শরীফ পড়া- গুনাহ না থাকে
৮. এ দিনে অন্য দিনের তুলনায় বেশী দুরূদ পড়া। (আবু দাউদ হাদীস নং ১০৪৭)
সুন্নত জিন্দার মিশন । পর্ব ০৮।  Md Abdul Kaiyum

সুন্নত জিন্দার মিশন । পর্ব ০৮। Md Abdul Kaiyum

সুন্নত জিন্দার মিশন পর্ব ০৮Md Abdul Kaiyum

খালিদ সালাম দিয়ে বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়.খালিদের বাবা সালামের জবাব দিয়ে স্থানীয় বাজারে হাটতে বের হোন.বড় ভাবি ইতিমধ্যে খাবারের রুমে এসে দেখে আয়েশা চায়ের কাপ, প্লেট ইত্যাদি ধৌত করে নির্দিষ্ট জায়গায় রাখছে..
বড়ভাবীঃ আপা.... আমি তো আসতাছি...আপনি কষ্ট করতাছেন কেন.?? এই দিকে দিন আমি রাখি..
আয়েশাঃ আরে কিচ্ছু হবে না ভাবী. আমি রাখছি, আপনি বরং মাকে জিজ্ঞেস করুন আজ দুপুরের জন্য কি রান্না করতে হবে..
বড় ভাবীঃ ঠিক আছে আমি তাহলে জিজ্ঞেস করে আছি..

বড়ভাবী তার শাশুড়ির রুমের দিলে চলে যায়...
রিমাঃ আপা একটা কথা বলি...
আয়েশাঃ আরে ভাবি একটা কেন হাজার টা বলুন..
রিমাঃ সকালে আব্বা আর বড়ভাবীর রুমে গেলাম. দেখলাম দুজনেই বই পড়তেছে.. আপনাদের বাড়ির সকলেই কি সব সময় বই
পড়ে..?
আয়েশাঃ আরে ভাবি.... আপনাদের বাড়ি বলতাছেন কেন..?? বলুন আমাদের বাড়ি. মেয়েদের বিয়ের পর স্বামির বাড়ি হলো মেয়েদের সব চেয়ে আপন বাড়ি..
"""মেয়েরা শশুরবাড়িকে নিজের যত আপন বাড়ি ভাববে.শশুর বাড়ির মানুষ গুলো তত মেয়েদের আপন করে নিবে"""
এই কথা গুলো খালিদ ভাই আমার বিয়ের সময় আমাকে নসীহত করেছে..আমি ও আল্লাহর রহমতে তা পালন করার চেষ্টা করেছি.. তাই তো এখন আমি আমার শশুর বাড়ি তে শুধু তাদের পুত্রবধূ নই. শশুর শাশুড়ির একটা কলিজার টুকরা.
রিমাঃ আপা... আমিও এই বাড়ির কলিজার টুকরা হতে চাই।
আয়েশাঃ আমিও চাই আপনিও বড় ভাবির মত এই বাড়ির সকলের কলিজার টুকরা হয়ে উঠুন।আর হ্যাঁ.... বইয়ের কথা বলছিলেন না.এই বাড়িতে যে যখন ঈ সময় পায়, তখনঈ বই পড়ে বা মোবাইলে ওয়াজ শুনে. এখন কেউ আর টিভি দেখে না.
রিমাঃ টিভি এভাবে ফেলে না রেখে কাওকে তো দিয়া দিতে পারে..
আয়েশাঃ আম্মু চাইছিল একজন কে দিয়া দিত, কিন্তু
খালিদ ভাইয়ের কথা হচ্ছে ওকে এটা দেওয়া মানে গুনাহের কাজে সাহায্য করা. ঐ ব্যক্তি টিভিতে যত নাচ দেখবে তত গুনাহের ভাগ আমাদের ভাগেও আসবে. তাই টিভি এভাবে পড়ে রয়েছে.
রিমাঃ ৩-৪ বছর আগেও এই বাড়ি ছিল অন্যান্য ৮/১০ টা বাড়ির মত. হঠাৎ এই কয়েক বছরে কিভাবে এত পরিবর্তন..?
আয়েশাঃ হঠাৎ নয় ভাবী.... আপনি যে এই ফ্যামিলিকে এত সাজানো গোছানো দেখতাছেন তা এমনি এমনি হয় নি... এর পিছনে রয়েছে খালিদ ভাইয়ের শ্রম,ত্যাগ,কুরবানি, আর চোখের পানি. কত রাত যে ভাইয়া তাহাজ্জুদের বিচানায় চোখের পানি ফেলেছেন তার হিসাব নেই. আল্লহর মেহেরবানীতে এই বাড়ি এখন কত সাজানো গোছানো.আলহামদুলিল্লাহ্‌..
এর মধ্যে বড়ভাবি চলে এসেছেন এবং রিমা আর আয়েশার কথা শুনতেছিলেন.. আয়েশার কথা যখন শেষ হয় তখন রিমা কে উদ্দেশ্য করে বড় ভাবি বলতে থাকেন
বড়ভাবীঃ জানেন ভাবি. খালিদ ভাই যখন হোষ্টেল থেকে এসে আমার সাথে পর্দা শুরু করে এবং আমাদের কে বলা শুরু করে এই করা যাবেনা, সেই করা যাবে না, তখন আমার খুব খারাপ লাগে. একদিন আমি আবু বক্কর আব্বুর (আবু বক্কর= বড়ভাবীর বড় ছেলে) সাথে খালিদ ভাইয়ের এসব আচরণ নিয়া ঝগড়া করি.পরে রিফাতের আব্বু আম্মাকে ব্যপার জানাইলে আম্মা একদিন খালিদ ভাইকে বাড়ি থেকে বাহির করে দেয়.. উনি ২ দিন বাড়িতে ছিলেন না,, মসজিদের মুয়াজ্জিনের সাথে ২ দিন মুয়াজ্জিন সাহেবের রুমে ছিলেন. পরে আম্মু আবার খবর দিয়ে বাড়িতে নিয়া আসেন.. তারপরেও খালিদ ভাই উনার আচরণ থেকে পিছ পা হোন নি, আবার আমার সাথে পর্দা করে, এই করা যাবে না, সেই করা যাবেনা. পরে আমরা উনাকে কোন গুরুত্ব দিতাম না, উনি উনারর মত চলতো..
একদিন রাতে আম্মা হঠাৎ টয়লেট যাওয়ার জন্য ঘুম থেকে উঠে, টয়লেটে যাওয়ার সময় আম্মা খেয়াল করলেন খালিদ ভাই যেন কান্না করতাছেন. আম্মা খালিদ ভাইয়ের রুমের দিকে চলে গেলেন. অন্যদিন উনার রুমের দরজাবন্ধ থাকলেও ঐদিন কেন জানি দরজা খোলা ছিল.(আল্লাহ চাইছেন তাই হইতো) আম্মা রুমের ভিতরে চলে গেলেন. গিয়ে দেখলেন খালিদ ভাই (কান্না কন্ঠে) আমাদের সকলের নাম ধরে ধরে হেদায়েতের জন্য দোয়া করছেন. আর কান্না করছেন. ঐ ঘঠনা আম্মা দেখে আম্মা আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে খালিদ ভাইকে জাড়িয়ে ধরে উনিও কান্না শুরু করে দেয়..যদিও ঐ রাতের ঘটনা আমি আর রিফাতের আব্বু জানতাম না. পরে একদিন আমাকে আর রিফাতের আব্বুকে আম্মা উনার ঘরে ডেকে নিয়ে ঐ রাতের ঘঠনা খুলে বলেন. তখন থেকে আমাদের পরিবর্তন শুরু.
জানেন ভাবি আমার কারনে খালিদ ভাইকে আম্মা ঘর থেকে বাহির করে দেয়. অথচ খালিদ ভাই আমার উপর কোন রাগ বা কষ্ট নেন নি. বরং যখন শুনেছে আমরাও পরিবর্তন হতে চায়..তখন উনি খুশি হয়ে আমাকে অনেক গুলো ইসলামক বই আর একটি মেমরি কার্ড হাদিয়া দেন. যাতে বাংলাদেশের বড় বড় ওলামায়ে কেরামের ওয়াজ লোড করা ছিল. উনার ইচ্ছা আর আল্লাহর দয়াতে আমার ২টি ছেলে আবু বক্কর আর উমর এখন হেফজখানায় পড়তাছে আলহামদুলিল্লাহ্‌...
জানেন ভাবি... আপনার খুব ভাগ্য ভালো যে খালিদ ভাইয়ের মত একটা ছেলে কে জীবনসাথী হিসেবে পেয়েছেন. আমিও মাওলার দরবারে শুকরিয়া আদায় করি আল্লাহ আমাকে খালিদ ভাইয়ের মত একটা ভালো মানুষকে আমার ভাই(দেবর)হিসেবে এক নেয়ামত দিয়েছে..
আয়েশাঃ জানেন ভাবি.. আল্লাহর দোয়া ও ভাইয়ার ইচ্ছাতেই আমার আলেমের ফ্যামিলিতে বিবাহ হয়েছে. যদিও প্রথমে আব্বা আম্মা রাজি ছিল না, কারণ আমার শশুর বাড়ির আর্থিক অবস্থা এত ভালো না.কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ ঐ বাড়িতে যাওয়ার পর বুঝলাম আল্লাহরর রহমত আর বরকত কাহাকে বলে. উনার অল্প ইনকামেও আমাদের সংসার সুন্দর ভাবে চলে যায়.কখনো কোন অভাব গায়ে লাগেনা.আমার সকল চাহিদা উনি পূরন করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন.
এসব আলোচনা করতে করতে তিন জনের চোখ থেকে অনবরত পানি পড়তে থাকে.
হঠাৎ সামনের দরজা থেকে সালাম উচ্চারণ.. বুঝতে বাকি রইল না খালিদ এসেছে.. রিমা আর আয়েশা দরজা খুলতে সামনেত রুমের দিকে গেলো..
চলবে ইনশাআল্লাহ
শিক্ষা
১) অহেতুক গল্পগুজব না করে বই পড়ার অভ্যাস করুন
২) গান বাজনা হারাম কাজে সাহায্য করা উচিৎ নয়
৩)শশুর বাড়িকে নিজের আপন বাড়ি মনে করুন. শশুর বাড়ির মানুষ গুলোকে নিজের আপন মানুষ মনে করুন.এবং তাদের সাথে আপন মানুষের মত আচরণ করুন.দেখিবেন ইনশাআল্লাহ আপনি ঐবাড়ির শুধু পুত্রবধূ না ঐ বাড়ির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যাবেন. (যেমন টা আয়েশা তার শশুরবাড়ির কলিজার টুকরা হয়েছেন)
৪)কোন কাজ বা রান্নাবান্না করার আগে শাশুড়ির সাথে পরামর্শ করে নিবেন
৫)বিবাহ করার সময় পাত্র নির্বাচনে পাত্রের অর্থিক অবস্থান নয় পাত্রের ধার্মিকতারর অবস্থান যাচাই করুন.
৬) জাহিলি সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে গেলে নানাধিক থেকে বাধা আসবে, এমন কি পরিবার থেকেও বাধা আসতে পারে.হতাস না হয়ে হিম্মতের সাথে সামনে এগিয়ে চলুন.নামাজের পর আল্লাহরর কাছে কান্নাকাটি করুন.

সুন্নত জিন্দার মিশন পর্ব ০৭

সুন্নত জিন্দার মিশন পর্ব ০৭

সুন্নত জিন্দার মিশন পর্ব ০৭

Md Abdul Kaiyum

খালিদঃ আমার খেয়াল ছিল আমাদের পাশের এলাকার মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ৪০-৫০ জন এতিম ছাত্র আছে তাদের যদি দাওয়াত দেওয়া যায়..... কি বলেন বাবা...
খালিদের বাবাঃ তা করা যায়.. তবে বাবা.. আমরা তো সমাজে বাস করি সমাজের গন্য মান্য ব্যক্তিদের কেও তো দাওয়াত দেওয়া জরুরী.
খালিদঃ তা তো অবশ্যই, এলাকায় ধনী গরীব মিলে ১৫-২০ জনকে দাওয়াত দেওয়া যায় .. মা আপনার খেয়াল কি..??


খালিদের মাঃ আত্মীয়স্বজনদের দাওয়াত দেওয়ার ব্যপারে কি ফিকির করলি..
খালিদঃ মা... আমার খেয়াল ছিল কাকা, মামা, ফুফাদের মধ্যে সকল মুরুব্বিদের দাওয়াত দেওয়া...
খালিদের মাঃ তাহলে তোর ফুফু খালা, মামি,কাকিদের ব্যপারে.???
খালিদঃ আসলে মা... এখন যদি সবাইকে একসাথে দাওয়াত দিই.তাহলে পর্দার বরখেলাফ হবে ফেতনার সৃষ্টি হবে. তাই আমার খেয়াল এখন সকল মুরুব্বিদের দাওয়াত দিই.. পরে ঘরোয়া ভাবে কাকি মামিদের দাওয়াত দেওয়া যাবে.কারন ওলীমার আয়োজন করা সুন্নত কিন্তু পর্দা ফরজ..সুন্নত আয়োজন করতে গিয়ে ফজরের সমস্যা হোক এটা আমি চাই না..
খালিদের মাঃ ঠিক আছে বাবা, তুই যেভাবে ভালো মনে করিস.. ও হ্যা... অবশ্যই বড় বউমা, ছোটো বউমার বাড়িতে দাওয়াত দিতে হবে..
খালিদঃ হুম মা, তা আমার স্মরণে আছে. আচ্ছা তোর কোন পরামর্শ দেওয়ার আছে...?(আয়েশার দিকে উদ্দেশ্য করে)
আয়েশাঃ না ভাই.. আপনারা যা পরামর্শ করছেন এটাই ভালো হচ্ছে.
খালিদঃ হযরত (আয়েশার বর) আজ না আসার কথা..?
আয়েশাঃ আজ তো শুক্রবার. উনাকে জুমা পড়াতে হবে.আজ আসবে না. কাল বিকালে এসে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে..
খালিদঃ বিকালে কেন.. উনাকে সকালেই চলে আসতে বল.. তারপর অনুষ্ঠান শেষ হলে না হয় বিকালে যাওয়ার ফিকির করিস..
আয়েশাঃ আচ্ছা উনাকে ফোন দিয়ে উনার সাথে পরামর্শ করে দেখি..ইনশাআল্লাহ
খালিদঃ আচ্ছা আমিও একটা ফোন দিবো, ও হ্যা তোর শশুর কে দাওয়াত দেওয়া যায় কিনা..
আয়েশাঃ দিলে তো ভালো হয়. তবে মনে হয় না আসবেন.. গলকাল কথা হয়েছে, ডাইবেটিস নাকি বেড়েছে.
খালিদঃ দাওয়াত দেওয়া জরুরী. শরীর ভালো থাকলে ইনশাআল্লাহ আসবে.. আপনার কি খেয়াল(রিমা কে উদ্দেশ্য করে)
রিমাঃ না.. আপনারা পরামর্শ ভিত্তিক যা মনে করেন, তাই করেন.
খালিদঃ কষ্ট করে একটা কাজ করুন. বড় ভাবীর রুমে যান.. বড় ভাবীর কোন খেয়াল/পারামর্শ আছে কিনা, উনি কাওকে দাওয়াত দিতে চাচ্ছে কিনা যদি জেনে আসতেন.?
রিমাঃ ঠিক আছে আমি যাচ্ছি..
খালিদঃও.... বলবেন বড় ভাইয়াকে ১ দিনের ছুটি নিয়ে হলেও আসতে বলতে. আমিও ফোন দিবো ইনশাআল্লাহ.
তারপর রিমা বড় ভাবীর রুমের দিকে চলে যায়...
রিমাঃ আসসালামু আলাইকুম.. ভাবী আসি...?
বড় ভাবীঃ ওয়ালাইকুমুসসালাম, হ্যা ভাবী আসুন আসুন
রিমাঃ কি করেন ভাবী..
বড় ভাবীঃ এই তো বই পড়ি...
রিমাঃ কি বই এটা. নাম কি.??
বড়ভাবীঃ মহিলাদের মুক্তিরর উপায়.(মাওলানা তারিক জামিল সাহেব)
রিমাঃ ও.. যাই হোক যেটার জন্য আসছিলাম. আপনাদের ভাই আগামিকাল ওলীমার আয়োজন করতেছে.এই ক্ষেত্রে আপনার পরামর্শ জানতে চাইছে.
বড়ভাবীঃ হুম, এটা তো সুন্নত. করা দরকার..
রিমাঃ আপনি কাওকে দাওয়াত দিবেন কিনা সেটা জানতে চাইছে..
বড়ভাবীঃ আব্বু কে দাওয়াত দিলে ভালো হতো.. তাহলে আব্বুকেও এই সুযোগে দেখতে পেতাম.
রিমাঃহুম, আপনার আব্বুকে দাওয়াত দেওয়ার ব্যপারে উনারা কথা বলেছিলো... আর বড় ভাইয়াকে ফোন দিতেন. উনি যেন ১দিনের জন্য হলেও ছুটি নিয়া আসেন.. আর আপনাদের ভাই ও ফোন দিবে বলেছিল।
বড়ভাবীঃ ঠিক আছে, আমি ফোন দিচ্ছি. ইনশাআল্লাহ
রিমাঃ ভাবী তাহলে আসি। আসসালামু আলাইকুম
বড়ভাবীঃ ওয়ালাইকুমুসসালাম
তারপর রিমা বড়ভাবীর রুম থেকে খাবার খাওয়ার রুমে আসে যেখানে তারা পরামর্শ করতেছিল..
খালিদঃ ভাবি কি বলছে..
রিমাঃ বলছে উনার আব্বুকে যদি দাওয়াত দিতেন তাহলে উনিও উনা আব্বুকে দেখার সুযোগ হতো.আর বড় ভাইয়াকে ফোন দিবে বলছে..
খালিদঃ ঠিক আছে.. তাহলে মা আমি উঠি. যাই বাবুর্চি কাকার সাথে কথা বলি, ১০০/১২০ জনের এরেজমেন্ট করতে কি কি করতে হবে কি কি লাগবে তা জেনে আসি..আসসালামু আইলাইকুম
চলবে ইনশাআল্লাহ
শিক্ষা
১)ওলিমার আয়োজন করা সুন্নত
২)কোন কাজ করতে পরামর্শ ভিত্তিক করা উত্তম.
বলা হয় যে.. মাসওয়ারা করা
আল্লাহরর হুকুম.
নবীজির সুন্নত.
মু মিনের সিফাত.
৩)সুন্নত কে প্রাধান্য দিতে গিয়ে যদি ফরজের সমস্যা হয়. তাহলে সুন্নত ছেড়ে দেওয়া উত্তম.
৪) কারো ঘরে বা রুমে প্রবেশ করতে সালাম দিয়ে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করা.
৫) যদি কোথাও বেড়াতে যাইলে তাহলে বাড়িতে নিয়মিত খোজ খবর রাখা..(আয়েশা তার শশুরের খোজ খবর নিলেন)
বিয়ের পরের দিন ও ওলিমা সংক্রান্ত কিছু তথ্য
সকালে মেহমানের সাথে সালাম করবে এবং দোয়া করবে, ওলীমা হিসেবে রুটি,গোসত,
দেখুন, ইবনু সাদ ৮/১০৭
ইমাম নাসায়ী ৬৬/৭ পৃষ্ঠা।
ওলীমা ৩দিন পর্যন্ত স্থায়ী হবে এটা সুন্নাহ। বিয়ের পরের দিনেই ওলীমার জন্য দাওয়াত দেওয়া সুন্নাহ।
দেখুন বুখারী ৯/ ১৮৯-১৯৪।
ওলীমার জন্য সৎ ব্যক্তিদের দাওয়াত করা হোক সে ধনী কিংবা গরীব
রসুলুল্লাহ সা বলেন তুমি শুধুমাত্র মুমিন ব্যক্তির সাথী হবে এবং শুধুমাত্র আল্লাহভীরুরা তোমার খাদ্য খাবে। দেখুন আবু দাঊদ,তিরমিযি, হাকিম, ৪/১২৮.
গোস্ত ছাড়াও ওলীমা জায়েজ। বুখারী ৭/১৯২. মুসলিম ৪/১৪৯!
নিজের মাল দ্বারা ওলীমায় শরীক হওয়া সুন্নাহ। বুখারি ৭/৩৮৭.
শুধুমাত্র ধনীদেরকে ওলীমার দাওয়াত দেওয়া হারাম।
দেখুন মুসলিম ৪/১৫৪
বায়হাকী ৭/২৬২.
ওলীমার দাওয়াতে যাওয়া ওয়াজিব।
তোমাদের কাউকে যদি ওলীমাতে দাওয়াত দেয়া হয় সে যেন তাতে আসে,যে ব্যক্তি দাওয়াতে গেল না সে আল্লাহ এবং রসুলের অবাধ্য হল। দেখুন বুখারী ৯/১৯৮
(বি ঃ দ্র ঃ গোনাহের আশংকা থাকলে না যাওয়াতে দোষের নয় বরং উত্তম)
(বিঃদ্রঃকোন ভুল বা কোন কথা সন্দেহপ্রবণ হলে অবশ্যই জানাবেন ইনশাআল্লাহ ঠিক করে নিবো)
সুন্নত জিন্দার মিশন । পর্ব ০৬

সুন্নত জিন্দার মিশন । পর্ব ০৬

সুন্নত জিন্দার মিশন। পর্ব ০৬

Md Abdul Kaiyum

রিমা রান্না ঘরে গিয়ে দেখে খালিদের বোন ( আয়েশা),বড় ভাবি আর উনার মা সকালের নাস্তা তৈরী করছে. আয়েশা রুটি বেলেদিচ্ছে আর খালিদের মা রুটি তা দিচ্ছে আর বড় ভাবি ডিম ভাজার জন্য পেয়াজ কাঁচামরিচ ইত্যাদি কাটছে.
রিমা প্রথমে সালাম দেয়.
খালিদের মা:ওয়ালাইকুমুসসালাম বউমা.. এসো এসো বসো. তো কেমন আছো মা...
রিমাঃ আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভালো আপনারা কেমন আছেন মা. আব্বা কি ঘুমে.??
খালিদের মাঃ আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভালো আছি, খালিদের আব্বু তো নামাজ পড়ে এসে একটু ঘুমানোর অভ্যাস আছে, তাই এখন একটু ঘুমাচ্ছে.



রিমাঃ আপু, এই দিকে দিন রুটি গুলো আমি বেলে দিই. আপনি একটু বিশ্রাম নিন.(আয়েশাকে লক্ষ করে)
আয়েশাঃআরে না ভাবি.. অনেকদিন মা বাবার খেদমত করার শুযোগ হয়নি. এখন একটু করতে দিন. আমি যাওয়ার পর না হয় আপনি করিয়েন।
খালিদের মাঃবউ মা, তুমি বরং ঐ পীড়ি টা টেনে বসো. তোমার সাথে গল্প করি..
রিমাঃ মা.. আপনি বরং এখানে বসুন. আমি ঐখানে বসি রুটি গুলো আমি তা দেখি আর সাথে সাথে কথা বলি.
খালিদের মাঃ না... মা.. যতদিন আল্লাহ সুস্থতা দিছে ততদিন একটু একটু কাজ করি.. তা ছাড়া কাজ করলে শরীর ভালো থাকে. তুমি বরং ঐখানে বসো.
রিমাঃআচ্ছা ঠিক আছে মা...
খালিদের মাঃতা মা.. আমার ছেলেকে কেমন লাগলো.??
রিমাঃ আলহামদুলিল্লাহ্‌. খুব ভালো
তারপর নাস্তা তৈরী করতে করতে নানা বিষয়ে কথা বলে.রিমার কাছে খালিদের ফ্যামিলির সবার কথা ভালো লাগে.যদিও রিমা জানতো খালিদের ফ্যামিলি খুব ভালো. কারন সে তার প্রথম বিয়ে হওয়ার আগে অনেক বার এই বাড়িতে রিমা এসেছিল.. তবে এত ভালো কল্পনাও করে নাই.
কথা বলতে বলতে একসময় নাস্তা বানানো শেষ হয়. এই দিকে খালিদের আব্বাও ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে নিজ রুমে বই পড়ে.
তারপর সবাই রান্নাঘর থেকে নাস্তা নিয়ে খাবারের রুমে আসলো.
রিমাঃ মা... আমি আব্বু আর উনাকে (খালিদ) কে ডেকে নিয়ে আসি..?
খালিদের মাঃ খালিদ তো আসবে না.. তুমি বরং খালিদের আব্বু কে ডেকে নাও
রিমাঃ কেন মা...উনি আপনাদের সাথে খাবার খান না..?
খালিদের মাঃ না... অবশ্য এর একটা কারন আছে. আস্তে আস্তে পরে জানতে পারবে.সে আমাদের খাওয়া শেষ হলে পরে এসে নিজে নিজে খায়.তুমি বরং তোমার শুশুর কে ডেকে নিয়ে এসো.
রিমার মনের ভিতর একটা চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে. কেন উনি একসাথে খান না. অথচ উনি সমাজ পরিবর্তন করতে চায়.. কিন্তু নিজের ঘরের মানুষের সাথে একসাথে খাবার খায় না..
রিমার ব্যপার টি আয়েশা খেয়াল করে.
আয়েশাঃ আসলে কি জানেন ভাবী.. প্রতিদিন বড় ভাবী আম্মু আব্বু কে খাবার বেড়ে দেয়. এবং বড় ভাবী তাদের সাথে একসাথে খায়. ভাইয়া তো পর্দার ব্যপারে খুব সতর্ক. উনি বড় ভাবির সাথে পর্দা করে চলে.তাই বড় ভাবী যখন খাওয়া শেষ করে রুমে যায় তখন ভাইয়া এসে খায়.
বড় ভাবীঃ আচ্ছা মা.. আজ আমি না হয় আমার খাওয়া রুমে নিয়ে খাই.খালিদ ভাই এসে আপনাদের সাথে বসুক.
খালিদের মা: কিন্ত তুমি তো প্রতিদিন আমাদের সাথেই খাও.. না মা খালিদ বরং পরে আসুক.তুমি আমাদের সাথেই থাকো...
বড়ভাবীঃ মা... খালিদ ভাই প্রতিদিন আমাদের জন্য কত সেক্রিফাইজ করে আজ না হয় আমি উনার জন্য সেক্রিফাইজ করি. একদিনের জন্যেই তো..
খালিদের মা:আচ্ছা ঠিক আছে মা.কিন্তু আমার খুব খারাপ লাগতাছে.
বড়ভাবীঃ কাল থেকে তো আবার একসাথে খাবো ইনশাআল্লাহ...
এই বলে বড় ভাবী উনার খাবার বেড়ে নিয়ে উনার রুমে চলে যায়.. আর রিমার উদ্দেশ্যে বলে ভাবী আপনি বরং ভাইয়াকে এখানে নিয়ে আসুন. আমি আব্বু কে ডেকে দিচ্ছি..
রিমা ঘরে গিয়ে দেখে খালিদ ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে এসে বই পড়ছে.
রিমাঃ আসসালামু আলাইকুম. ঘুম থেকে কখন উঠলেন..
খালিদঃ ওয়ালাইকুমুসসালাম, এই তো কিছুক্ষণ হলো..নাস্তা করেছেন.
রিমাঃ না. নাস্তা করার জন্যই তো আপনাকে ডাকতে আসছি.চলুন একসাথে নাস্তা করবেন.
খালিদঃ আপনি বরং আম্মাদের সাথে নাস্তা করুন. আপনি হয়তো জানেন না, আমি সবার পরে নাস্তা করি.
রিমাঃ হুম জানি, এবং এটাও জানি কেন সবার পরে নাস্তা করেন. আজ আপনার জন্য বড় ভাবী সেক্রিফাইজ করেছে. আজ উনি নাস্তা নিয়ে উনার রুমে চলে গেছেন. চলুন সবাই আপনার জন্য অপেক্ষা করতাছে.
খালিদঃ আচ্ছা চলুন..
তারপর খালিদ আর রিমা খাবার খাওয়ার রুমে আসলো.এর মাঝে খালিদের আব্বু চলে এসেছে.ডাক্তারের পরামর্শের কারনে উনারা(খালিদের পিতা মাতা) টেবিল চেয়ারে বসে খাবার খান. কিন্তু খালিদ এসে টেবিলের পাশে খাটের উপর বসে তাতে দাস্তরখানা বিছিয়ে বসলো.কারন সে সুন্নত তরিকায় খাবার খায়..রিমা এবার সিদ্ধান্ত হীনতায় ভুগলো, সেও কি খাটের উপর বসবে নাকি তার শাশুড়ির পাশে চেয়ারে বসবে. খালিদ ব্যাপার টা বুঝতে পেরেছে
খালিদঃ আপনি আম্মুর পাশে চেয়ারে বসুন.
রিমা গিয়ে চেয়ারে বসলো. আয়েশা সবাইকে নাস্তা বেড়ে দিলো.সবাই নাস্তা করা শেষ হলে খালিদ তার পিতার দিকে লক্ষ করে বলেন.
খালিদঃ আচ্ছা আব্বু, আগামিকাল আমাদের বাড়িতে ওলিমার ব্যবস্থা করলে কেমন হয়..?
খালিদের বাবাঃ আমিও ব্যপারটা খেয়াল করছিলাম তোকে বলব বলব ভাবছিলাম...
(চলবে ইনশাআল্লাহ)
শিক্ষা
১)সালাম দেওয়া সুন্নত.সালামের উত্তর দেওয়া ওয়াজিব.ঘরের ভিতর একে অপর কে সালাম দিবে.
যতবেশি একে অপরকে সালাম দিবে ততবেশি তাদের ভিতর মহব্বত সৃষ্টি হবে.
২)ভাবীর সাথে পর্দা করা ফরজ. হাদিস শরীফে আসছে দেবর মৃত্যুর সমান.
৩) সেক্রিফাইজ বা অপরকে প্রধান্য দেওয়ার চেষ্টা করুন. অপরের জন্য নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ করার মানুষিকতা তৈরী করুন. কথায় আছে ভোগে নয় ত্যাগেই প্রকৃত সুখ.
৪)দস্তরখানায় খাবার খাওয়া সুন্নত.
শরীয়ত পরিপন্থী কাজ
আমাদের দেশে মনে করা হয়. দেবর আরর ভাবীর পর্দা করা লাগেনা.এটা মারাত্মক অন্যায় এবং মারাত্মক গুনাহের কাজ. আমাদের এগুলা পরিহার করতে হবে.